আক্কেলপুরে আলুর চিপসে্ কর্ম পেয়েছে ৩শ’ পরিবার

আক্কেলপুরে আলুর চিপস্ তৈরি করে প্রায় তিন-শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। আলুর চিপস্ তৈরির মাধ্যমে এসব পরিবারের সংসারের অভাব দূর হয়েছে। হাতে তৈরি করা আলুর চিপস্ বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখনো লোকসান গুনতে হয়নি এই তিন শতাধিক পরিবারকে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চিপস্ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
আক্কেলপুর উপজেলার শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষরা আলুর চিপস্ তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আলু সিদ্ধ করছেন, কেউ আলু কাটছেন, আবার কেউ কাটা আলুর চিপস্গুলো রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। বাজার থেকে (ক্যাটিনাল) আলু সংগ্রহ করে সে আলুগুলো সিদ্ধ করার পর কেটে রোদে শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে চিপস্। সেই শুকনো আলুর চিপস্গুলো বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এই গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারাবছর আলুর চিপস্ ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এই চিপস্ তৈরি করতে একটু পরিশ্রম বেশি হলেও লোকসানের মুখ দেখতে হয়নি আজ পর্যন্ত। যেসব ব্যবসায়ীর পুঁজি বেশি তারা বেশি করে আলু কিনে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের আলু কিনে সংরক্ষণ করার সামর্থ্য নেই। শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের চিপস্ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচ মণ আলু সিদ্ধ করে কেটে সেগুলো রোদে শুকিয়ে এক মণ শুকনো চিপস্ তৈরি করা যায়। এক মণ শুকনো চিপস্ তৈরি করতে দুই হাজার টাকা খরচ হয়। সময় লাগে দুই দিন। আর এক মণ চিপস্ বাজারে বিক্রি হয় সাড়ে তিন হাজার টাকায়। দুই দিনে লাভ হয় দেড় হাজার টাকা। বাপ দাদার এ ব্যবসা এখনো আমরা ধরে আছি।
আক্কেলপুর নাগরিক উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক ইমদাদুল হক বলেন, এই প্রত্যন্ত গ্রামে চিপস্ তৈরির ফলে খাদ্য হিসেবে আলুর বহুবিদ ব্যবহার হচ্ছে। সরকার যদি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেন তাহলে এই পরিবারগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে।
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান বলেন, আলুর বহুবিদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে আলু চাষিদের উত্পাদিত আলুর ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *