আক্কেলপুরে রাস্তার কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউপি কার্যালয় থেকে কাশিড়া বাজার পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এস.সি.আর.টি- জে ভি  নামে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কাজে অনিয়োমের প্রমান পাওয়াই গত ১৮ এপ্রিল উপজেলা  প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম লিখিত চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা মানছেন না ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক রাহুল গাজী সরকারি নির্দেশ ও গ্রামবাসিদের বাঁধা অপেক্ষা করে নিম্নমানের ইটের খোঁয়া দিয়ে কাজ চালিয়ে জান। এমন সংবাদের ভিত্তিত্বে গত ২৬ এপ্রিল আবারোও উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন। সেই সাথে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে রাস্তায় নিম্নমানের ইট অপসারণ করতে পুনরায় নির্দেশ প্রদান করেন।
গ্রামবাসী ও উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সুত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার কালাই,ক্ষেতলাল  ও আক্কেলপুর এই তিন উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দের আওতায় গ্রামীণ রাস্তা পাকা করনের কাজ হচ্ছে। এর অংশ বিশেষ আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউপি কার্যালয় থেকে শুরু করে কাশিড়া বাজার পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণে ব্যায় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ৬ হাজার টাকা।  সেখানে বগুড়ার এস.সি.আর.টি-জেভি প্রোফাইটার রাহুল গাজী নামে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি করছেন। রাস্তার কাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পরে গ্রামবাসীদের চোখে। গ্রামবাসীরা উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের রাস্তার কাজ দেখাশোনা করার জন্য লোকেদের জানালে তারা কোন পদক্ষেপ না নিলে এক পর্যায়ে নিম্নমানের ইটের খোঁয়া ব্যাবহার করতে বাঁধা দেয় গ্রামবাসীরা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনেরা গায়ের জোরে কাজ চালিয়ে যায়।
রত্নাহার গ্রামের বাসিন্দা আহম্মদ আলী বলেন, আমাদের গ্রামের মধ্যদিয়ে রাস্তা হওয়াই আমরা অনেক খুশি সরকারের উপর। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইটের খোঁয়া দিয়ে রাস্তার কাজ করছেন। আমারা গ্রামবাসীরা বাঁধা দিয়েছিলাম তারা শোনেনি। এ ভাবে নিম্নমানের ইটের খোঁয়া দিয়ে কাজ করলে রাস্তা বেশীদিন টিকবে না।
দুলালী গ্রামের স্কুল শিক্ষক সিদ্দিক হোসেন বলেন,রাস্তার শুরু থেকেই অনিয়োমে ভরপুর তারা যে বালু ব্যাবহার করেছে তা খুবিই খারাপ। বালুতে পানি ও রোলার দিয়ে না সমান করেই নিম্নমানের ইটের খোঁয়া ফেলছেন। এবং রাস্তার পাশে পুকুরের ধারে কোন রাস্তার মাটি ধরে রাখার জন্য প্লালাসাইটিং না করেই কাজ করছেন যা এখনিই ভেঙে পরছে। গ্রামবাসিরা বাঁধা দিলেও তারা মানছেন না।
রাস্তার কাজ দেখা শোনা করার দায়ীত্বে থাকা হেড মিস্ত্রি মকবুল হোসেন বলেন,  কাজ বন্ধের চিঠি পাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত নিম্নমানের ইট অপসারন করা হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক হুকুম দিলে তা সময় মতো অপসারণ করা হবে।
বগুড়ার এস.সি.আর.টি-জেভি নামে ঠিকাদারী প্রষ্ঠিান প্রোপ্রাইটর রাহুল গাজী বলেন, রাস্তার নি¤্নমানের ইটের খোঁয়ার ব্যাবহারের কথা অস্কৃকার করে বলেন,আমি কাজ বন্ধের চিঠি পাওয়ার পর নিম্নমানের ইটের খোঁয়া অপসারণ করেছি।
অফিসের লোকজনের সামনে ইটের খোঁয়া অপসারনের কথা চিঠিতে উল্লেখ ছিল  আপনি কেন তাদেরকে ছাড়াই নিম্নমানের ইটের খোঁয়া অপসারণ করলেন যা আবার গ্রামের জানেন না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,অফিসের লোকেরা সব সময় ব্যাস্ত থাকে তাই তাদেরকে জানাই নি। কাজের কোন সমস্যা নেই।
উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন,রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইটের খোঁয়া ব্যাবহারে কথা গ্রামবাসীদের কাছে জানার পর আমি গত ১৮ এপ্রিল রাস্তার কাজ বন্ধ রেখে নিম্নমানের ইটের খোঁয়া অফিসের লোকের সামনে অপসারণের কথা লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে জানিয়ে ছিলাম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। তিনি সরকারি নির্দেশ অপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত ২৬ এপ্রিল আবারও রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইটের খোঁয়া সম্পূর্ণভাবে উঠিয়ে ভাল খোঁয়া না দিলে ওই প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। (সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *