পাঁচবিবি আ.লীগের সম্মেলন কাউন্সিলরদের মতামত ছাড়াই সভাপতি–সম্পাদকের নাম ঘোষণা, হট্টগোল

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে কাউন্সিলরদের মতামত ছাড়াই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করায় হট্টগোল হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কমিটি ঘোষণার পর একাংশের নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা সম্মেলনস্থলের চেয়ার ভাঙচুর করেন।

দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পাঁচবিবি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, বেলা দুইটায় জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। সেখানে প্রধান অতিথি এস এম কামাল হোসেন সভাপতি পদে আবু বক্কর সিদ্দিক মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক পদে জিহাদ মণ্ডলের নাম ঘোষণা করেন। তখন সম্মেলনস্থলে থাকা সভাপতি পদপ্রত্যাশী পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশী আবু সাঈদ আল মাহবুব চন্দনের কর্মী-সমর্থকেরা কমিটি বাতিলের দাবি জানান।

কমিটি ঘোষণার পর উত্তেজিত নেতা–কর্মীরা সম্মেলনস্থলের চেয়ার ভাঙচুর করেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে

এ সময় উত্তেজিত দলীয় নেতা-কর্মীরা ‘ধর ধর’ বলে সম্মেলনের মঞ্চের সামনে গিয়ে এস এম কামাল হোসেনকে নিচে নামতে বাধা দেন। উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা ‘টাকার বিনিময়ে কমিটি, মানি না মানব না’ স্লোগান দেন। পরে পুলিশ ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের পাহারায় এস এম কামাল সম্মেলনস্থল ছেড়ে যান। তখন উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা সম্মেলনস্থলের চেয়ার ভাঙচুর করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, তাঁরা গোপন ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের মতামত ছাড়াই সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁরা ঘোষিত নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে মানেন না, মানবেন না। আবার গোপন ভোটে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের দাবি করছেন তিনি।

আবু সাঈদ আল মাহবুব বলেন, ‘আমি সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশী ছিলাম। আমার এ পদে জিহাদ মণ্ডলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যদি গোপনে ভোটের ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে জয়লাভ করতাম। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা যে কমিটি ঘোষণা করেছেন, তা মেনে নিয়েছি। দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।’

পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আমি এ কমিটি মেনে নিয়েছি।’

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে দ্বিতীয় অধিবেশনে হট্টগোল হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *