বিনোদন

রানি ইসাবেল জীবনে মাত্র দুইবার গোসল করেন

ডেস্ক রিপোর্টঃ শরীরের ময়লা দুর্গন্ধ পরিষ্কার করতেই নয় গোসলে আছে নানান শারীরিক উপকারিতা। কেউ কেউ আছেন দিনে ২ থেকে ৩ বার গোসল করেন। আবার গোসলের প্রতি অনীহা দেখা যায় অনেকের। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে এই তালিকায় বড়দের সংখ্যাও কম নয়। অনেকেই জীবনের কিছুটা সময় নানা কারণে গোসল না করে কাটিয়েছেন।

তবে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন লন্ডনের জেন লিউসন। যিনি লেডি লুসন নামেও পরিচিত ছিলেন। খুবই অদ্ভুত আচরণের ছিলেন এই নারী। তিনি লন্ডনের স্ট্র্যান্ডে ১৭০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১১৬ বছর বয়সে মারা যাননি। কিন্তু জীবদ্দশায় একবারও গোসল করেননি তিনি। বেশ বিলাসবহুল জীবন কাটিয়েছেন এই নারী। তবে ঠান্ডা লাগার ভয়ে এবং নানান কুসংস্কার মানতেন, এজন্য কোনোদিন শরীরে পানি ছোঁয়াননি তিনি। গোসলের পরিবর্তে শরীরে শূকরের চর্বি মাখতেন তিনি। ধারণা করা হয়, নোংরা থাকার কারণে শরীরে নানান ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দেয়। ফলে তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর পর তার বাড়িতে যারা গিয়েছেন তাদের কাছ থেকে জানা যায় যে, জেনের বাড়ি কতটা নোংরা ছিল। তারা ভেতরে গিয়ে একেবারে হতবাক হয়ে যান সবাই। সিলিংয়ে ময়লা পুরু হয়ে গিয়েছে। জানালা, দরজা, ফ্লোর সবখানেই ময়লার আস্তরণ। ফায়ার প্লেসের ছাই সরানো হয়নি বোধহয় বছর খানিক ধরে। গ্রেট এক্সপেকটেশনস উপন্যাসের স্পিনস্টার মিস হাভিশামের চরিত্রটি জেনের আদলেই তৈরি বলে মনে করেন অনেকেই। এছাড়াও ১৮৪৬ সালে আলফ্রেড ইনিগো সাকলিং-এর দ্য হিস্টোরি অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিস অব দ্য কাউন্টি অব সাফোক বইতে জেনের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

ইতিহাসে আরও অনেক ব্যক্তি আছেন যারা জীবনে কেউ একবারও গোসল করেননি। কেউ কেউ আছেন জীবনে একবার বা দুবার গোসল করেছিলেন। স্পেনের রানি ইসাবেল জীবনে মাত্র দুইবার গোসল করেন। যেদিন তার জন্ম হয় এবং দ্বিতীয় ও শেষবার তার বিয়ের দিন। এমনকি তাদের এতো বড় প্রাসাদে ছিল না কোনো বাথরুম। তারা শরীরে ব্যবহার করতেন নানান ধরনে সুগন্ধি। এমনকি রানি প্রথম এলিজাবেথ বছরে একবার গোসল করতেন।

মধ্যযুগে গোসল ছিল এক রকম বিলাসিতা। ফরাসি ইতিহাসবিদ জুলেস মিসলেট ইউরোপের মধ্যযুগকে ‘গোসল ছাড়া ১০০০ বছর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপীয়দের মনে ধারণা ছিল, গোসল করলে রোমকূপের মধ্যে দিয়ে দেহে রোগ-জীবাণু প্রবেশ করে এবং সেই কারণে তারা গোসল করতেন না।

আরও পড়ুন

বিশ্বজুড়ে প্রতি সেকেন্ডে ২৫ হাজার কাপ চা পান করেন মানুষ 

ছবির মতো এখনকার যে ঝকঝকে ইউরোপ দেখতে পান। তা একসময় ছিল বস্তির মতো। তখনকার ১০ হাজার রাজ প্রাসাদসহ কর্মচারী ও চাকরদের থাকার স্থান সবকিছুই ছিল খুবই অপরিষ্কার। প্রায় সব প্রাসাদের রান্নাঘর ছিল উন্মুক্ত। পাশেই ছিল চাকরদের টয়লেট। রান্নাঘরে ধূলা ময়লা, দুর্গন্ধ আর ইঁদুরে ভরা থাকত। তার মধ্যেই তৈরি করা হতো খাবার। সেসময় ইউরোপের মানুষ যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখত এমনকি টয়লেটও করত।

১৫৩৫ এর জুলাই মাসে কিং অষ্টম হেনরি ৭০০ এরও বেশি লোক নিয়ে পুরো ইউরোপ পরিদর্শনের উদ্যোগ নিলেন। চার মাসের মধ্যে পুরো ইউরোপের ৩০ টি রাজবাড়ি, অভিজাত আবাস এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অন্দর পরিদর্শন করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। তারা এসব পরিদর্শন করে বেশ অবাক হলেন। এতো নোংরা তারা কোথায় সরাবেন? তাদের মাথায় বাজ পড়ল যেন!

প্রাসাদগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজদরবার সহ রাস্তা ঘাটেও বিভিন্ন বর্জ্য, ফেলে দেয়া খাবার ও পশুর বর্জ্যে সয়লাব ছিল। সেইসঙ্গে কাকের উপদ্রবে রাস্তা ও ফাঁকা স্থানগুলো সবসময় মুখরিত থাকত। এসব পরিষ্কার করতে হেনরির লোকদের অনেক বেগ পেতে হয়। কারণ প্রাসাদগুলো এতোটাই নোংরা ছিল। যা পরিষ্কার করতে তাদের অনেক সময় লেগেছিল। এসব রাজপ্রাসাদগুলোও ছিল বিশাল এবং অনেক কক্ষবিশিষ্ট।

রাশিয়ার ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের রাজ প্রাসাদটি ছিল ভয়াবহ দুর্গন্ধযুক্ত। সেখানকার রান্নাঘর ভর্তি ছিল নোংরা হাড়ি পাতিল এবং পোকা মাকড়ে ঠাসা। এমনকি তার ঘরে ১০০ এরও বেশি নোংরা কাপড় পাওয়া যায়, যেগুলো কখনো ধোয়া হয়নি। তখনকার সময় নারীরা চুল পরিষ্কার করতেন অ্যালকালাইনের মিশ্রণ দিয়ে। সাবান ও পানি ছোঁয়া যেন তার বারণ ছিল। অন্যদিকে চতুর্থ লুইয়ের ছবিতে যতই অ্যামব্রয়েডারি পোশাকের ঝলকানি দেখুন না কেন সেগুলো কখনো ধোয়া হয়নি। এই পোশাকগুলোও ছিল খুবই নোংরা আর দুর্গন্ধময়।

ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস তার বিছানায় পোষ্যদের নিয়ে ঘুমাতেন। এছাড়াও তার ঘর, পোশাক ছিল নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। গোসলও করতেন না কখনো। রয়্যাল আর্ট অব পয়জন এর লেখক এলিয়েনর হারম্যান এসব রাজকীয় প্রাসাদ সম্পর্কে বলেছেন, মল-মূত্র সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকত। নারী ও পুরুষরা যেখানে সেখানে মল-মূত্র ত্যাগ করতেন। ১৬৭৫ সালে একটি প্রতিবেদনে প্যারিসের লুভর প্রাসাদ সম্পর্কে বলা হয়েছিল, সেখানকার সিঁড়ির উপরে, দরজার পিছনেসহ প্রায় সর্বত্রই মল-মূত্রের ছড়াছড়ি ছিল।

আরও পড়ুন

আধুনিক সভ্যতায় আলুর অবদান 
বাংলায় বিস্কুট ছিল নিষিদ্ধ খাবার 

সূত্র: জর্জিয়ান ইরা, হিস্টোরিডটকম

কেএসকে/জিকেএস

সংবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় জাগো নিউজ ২৪-এ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *