সারাদেশ

একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদধারী হয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন স্বামী-স্ত্রী। তারা হলেন, নরসিংদী-৩ (শিবপুর)’র সাবেক সংসদ সদস্য ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো: সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং তার স্ত্রী শিবপুর উপজেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী ফেরদৌসী ইসলাম।

রাজনৈতিকভাবে নরসিংদী জেলার জন্য শিবপুর আসনটি গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। কেননা ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনটি বিএনপির মহাসচিব প্রয়াত আব্দুল মান্না ভূইয়ার নেতৃত্বে দখলে ছিল ২০০৬ পর্যন্ত। ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন দাবী করেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, বর্তমান সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূইয়া মোহন, তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত মাহবুবুর রহমান ভূইয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ২৫ বছরের সভাপতি প্রয়াত হারুন অর রশিদ খান।

ওই নির্বাচনে জহিরুল হক ভূইয়া মোহন বিজয়ী হয়। তখন তার প্রতিদ্বন্দী ছিলেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত আব্দুল মান্নান ভূইয়া। তখন তিনি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে তারাই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দাবী করেন। তখনও জহিরুল হক ভূইয়া মোহন দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করেন। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো: সিরাজুল ইসলাম মোল্লা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেন।

সে সময় বিএনপি নির্বাচনে না আসায় সেই ভোটকে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ভোট ব্যাংক তৈরী করেন। এছাড়া বিএনপি নেতা ও আব্দুল মান্নান ভূইয়া পরিষদের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম মৃধাকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করেন। আর বিএনপির ভোট সংগ্রহে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন আরিফ মৃধা। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে খুব সহজেই জয়লাভ করেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।

২০১৮ সালের একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন জহিরুল হক ভূইয়া মোহন। তখনও সিরাজুল ইসলাম মোল্লা স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে বিএনপির শক্তিশালী কোনো প্রার্থী না থাকায় ও পাহাড়ী এলাকায় একটি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্ট হত্যাকান্ড সিরাজুল মোল্লাকে অভিযুক্ত করে সমালোচনার কারণে পরাজিত হন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের অভিযোগে এবার মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন জহিরুল হক ভূইয়া মোহন। এই আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন সাবেক সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল খান কিরন এর ছেলে ও শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফজলে রাব্বি খান।

এবারও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। এবার স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলাম স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা কর্তৃক দুজনের মনোনয়নই বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নধারী ফজলে রাব্বী খান নৌকা প্রতীক পেলেও তিনি প্রথম বারের মতো প্রার্থী হওয়া এবং এলাকায় খুববেশী পরিচিত নন বলে মতামত দেন। আর এবারও বিএনপি নির্বাচনে মাঠে না থাকায় বিএনপির ভোট সংগ্রহের মাধ্যমে জয়ের আশা করছেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।

দলীয় লোকজন আরও জানান, সিরাজ মোল্লা শিল্পপতি হওয়ায় যে কোনো কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনায় তার স্ত্রী ও উপজেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী ফেরদৌসী ইসলামকে দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলাম মাঠে না থাকার সম্ভাবনাই বেশী।

তৃতীয় দিনে ১৫৫ জনের প্রার্থিতা পেতে ইসিতে আপিল

ছবি: বার্তা২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনে ১৫৫ জন আপিল আবেদন করেছে। এ নিয়ে মোট আপিলকারীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩৮ জনে। প্রথম দিনে ছিল ৪২ জন। দ্বিতীয় দিন ছিল ১৪১ জন।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ব্রিফিং এ ইসি সচিব মোঃ জাহাংগীর আলম এই তথ্য জানান। এসময় বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি আপিল আবেদন জমা পড়ে।

সচিব জানান, ঢাকা অঞ্চলে ২৮ জন, কুমিল্লার ৩৩ জন, চট্টগ্রামের ১১ জন, ফরিদপুরের ৪ জন, সিলেটের ৯ জন, ময়মনসিংহেরর ৮ জন, বরিশালের ৪ জন, খুলনার ১৭ জন, রাজশাহীর ১৭ জন ও রংপুর অঞ্চলের ২৪ জন প্রার্থী আপিল আবেদন করেছেন।

এবারের জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল দুই হাজার ৭১৬টি। এর মধ্যে বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন ৭৩১ জনের।

আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। আর ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর আপিল নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।

;

বদলির তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে ওসি-ইউএনওদের 

বদলির তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে ওসি-ইউএনওদের 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে সারাদেশের থানার ওসি ও ইউএনদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। সে ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ৩৩৮ থানার ওসি এবং ১৫৭ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে বদলির তালিকা পাঠায় ইসিতে। সেই তালিকা অনুমোদনও দেয় ইসি। তবে সেই বদলি তালিকা আর বড় হচ্ছে বলে জানিছেন ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

ইসির এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ওসি-ইউএনও বদলির প্রস্তাব চলমান। ৩৩৮ থানার ওসি এবং ১১০ জন ইউএনও বদলি করা হয়েছে। নতুন করে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আসবে। ভোট সুষ্ঠ ও নিরাপদ করতেই এমন উদ্যোগ।’ 

আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে যেসব ওসি বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন প্রথমে তাদের ও পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ওসি বদলির নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইজিপিকে চিঠি পাঠিয়ে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ওসিদের বদলির প্রস্তাব ইসিতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন বদলির প্রস্তাব পাঠাতে আরও তিন দিন সময় বাড়ায়। সারা দেশে বর্তমানে ৬৫০টির বেশি থানা রয়েছে।

এর আগে রাজধানীর ৫০টি থানার মধ্যে ৩৩টির ওসিকে বদলি করতে তালিকা তৈরি করে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ১১০ ইউএনওকে বদলির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এর আগে গত সোমবার প্রথম পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৭ ইউএনওকে বদলির প্রস্তাবে সম্মতি দেয় নির্বাচন কমিশন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮, বরিশাল বিভাগের ২, খুলনা বিভাগের ৪, ময়মনসিংহ বিভাগের ৬, সিলেট বিভাগের ৬, রাজশাহী বিভাগের ৬ ও রংপুর বিভাগের ২ জন রয়েছেন।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে দেশের সব ইউএনওকে পর্যায়ক্রমে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। ইউএনওদের বদলির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে গত ৩০ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে যেসব ইউএনওর বর্তমান কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ এক বছরের বেশি হয়ে গেছে, তাদের অন্য জেলায় বদলির প্রস্তাব ইসিতে পাঠানো প্রয়োজন।

;

৩৩৮ ওসি ও ১১০ ইউএনওকে বদলির অনুমোদন ইসির

ছবি: বার্তা২৪.কম

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশের ৩৩৮ থানার ওসি ও ১১০ ইউএনওকে বদলির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ওসিদের বদলি করতে প্রস্তাব তৈরি করেছে পুলিশ সদর দফতর। যা ইসিতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া ১১০ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বদলি করতেও নির্বাচন কমিশনে আজ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে যেসব ওসি বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন প্রথমে তাদের ও পরে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ওসি বদলির নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইজিপিকে চিঠি পাঠিয়ে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ওসিদের বদলির প্রস্তাব ইসিতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন বদলির প্রস্তাব পাঠাতে আরও তিন দিন সময় বাড়ায়। সারাদেশে বর্তমানে ৬৫০টির বেশি থানা রয়েছে।

এর আগে রাজধানীর ৫০টি থানার মধ্যে ৩৩টির ওসিকে বদলি করতে তালিকা তৈরি করে গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এর আগে গত সোমবার প্রথম পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৭ ইউএনওকে বদলির প্রস্তাবে সম্মতি দেয় নির্বাচন কমিশন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮, বরিশাল বিভাগের ২, খুলনা বিভাগের ৪, ময়মনসিংহ বিভাগের ৬, সিলেট বিভাগের ৬, রাজশাহী বিভাগের ৬ ও রংপুর বিভাগের ২ জন রয়েছেন।

এবারের সংসদ নির্বাচনে ২৯ টি দল ও স্বতন্ত্র মিলে দুই হাজার ৭১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তার মধ্যে ১৯শ ৮৫ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা ও বাকি ৭৩১ জনের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়া প্রার্থিতা কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।

;

১০ বছরে জাসদের শিরীন আখতারের সম্পদের পাশাপাশি বেড়েছে ঋণ

ছবি: সংগৃহীত

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) এর সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। গত ১০ বছরে দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য থাকাকালীন তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে কয়েকগুণ। সাথে বেড়েছে ঋণের পরিমাণ।

শিরীন আখতার এমপি দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য হন।

নির্বাচনী হলফনামার তথ্যানুযায়ী, শিরীন আখতারের অস্থাবর সম্পত্তির মাঝে নিজের নামে ৫২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৬০ টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ টাকা। তিনি কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় করেন ২ লাখ ৮০ হাজার ৫শ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত হিসেবে তার জমা আছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৪ টাকা।

এবারের হলফনামায় দেখা যায়, শিরীন আখতারের রাজধানী ঢাকা উত্তরা ব্যাংক সাত মসজিদ শাখায় ৩০ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬১ টাকা এবং মধুমতি ব্যাংক শেখ কামাল সরণি শাখায় ৯ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৭ টাকা ঋণ রয়েছে। ২০১৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী, শিরীন আখতারের রাজধানীর সাতমসজিদ রোড শাখার উত্তরা ব্যাংকে দুটি খাতে ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪৪ টাকা ঋণ ছিল। ৫ বছরের ব্যবধানে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৪ টাকা।

বর্তমানে শিরীন আখতার চড়ছেন ২টি গাড়িতে। যেগুলোর আর্থিক মূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৯ টাকা। ২০১৮ সালের হলফনামায় দেখা যায়, শিরীন আখতারের ৩৯ লাখ ৬৯ হাজার ১৬৯ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ছিল।

১৯৭৫ সালে সামরিক আইনে রংপুরে একটি মামলায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও পরবর্তীতে তা খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালে ফেনী-১ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হওয়া শিরীন আখতারের নির্বাচনের হলফনামায় ৫৮ লাখ ১১ হাজার ৪৬১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি উল্লেখ ছিল। ৫ বছর পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সম্পত্তি ছিল ১ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯০ টাকা। যা আগের ৫ বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি ছিল।

২০১৮ সালের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শিরীন আখতারের গাজীপুরে ৯ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ টাকা মূল্যের ৬২ শতাংশ জমি, ধানমন্ডি ও ফেনী শ

হরে সাড়ে ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ছিল। এফডিআর ও সঞ্চয় প্রকল্পে রাখা হয়েছে ৩৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯১ টাকা। তার মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে আয় করেছেন সাড়ে ২৩ লাখ টাকা। আয়ের খাতে কৃষি থেকে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫০ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয় ও ব্যাংক আমানত থেকে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা ছিল। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৮৭ টাকা, বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ছিল ৩৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯১ টাকা।

শিরীন আখতার ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করেন। তিনি ডাকসু নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন্নাহার হল ছাত্রী সংসদের সমাজ সেবা সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিক জোট, স্কপ, ঐক্যবদ্ধ নারী সমাজের কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবে ভূমিকা রাখেন। শিরীন আখতার ২০১৬ সালের ১২ মার্চ থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন।

;

সংবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় বার্তা ২৪-এ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *