সারাদেশ

গোলাগুলির বিকট শব্দে ঘুম ভাঙছে সীমান্ত জনপদের

ডেস্ক রিপোর্ট: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ছিদ্দিক আকবর বাবু (৩৫)। ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস তাদের। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ফলে ঘরছাড়া পুরো পরিবার; এই পরিবারের সদস্যদের ১০ জনের মধ্যে তিনজন নারী এবং ১ শিশু।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাবু বার্তা২৪.কম-কে বলেন, সীমান্তে অস্থিরতার কারণে আমার পরিবারের সবাই উখিয়া বোনের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। শুধু আমি বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য বাড়ির আশেপাশে আছি। আমিও শঙ্কিত কখন না কখন মর্টার শেল বা গুলি এসে পড়ে।

ঘুমধুম সীমান্তের নয়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর (৩৫) ৫ সদস্যের পরিবারে ২ জন নারী ও ২ শিশু রয়েছে; তারাও চলে গেছে আলীর শ্বশুরবাড়ি উখিয়ায়।

মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের পাড়ায় ৬০/৭০টি পরিবার আছে। একটি পরিবারেও নারী এবং শিশু নেই। সবাই দূরদূরান্তের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। খাবারদাবারে সমস্যা দেখা দিয়েছে, বাসায় রান্না হয় না দুই দিন।

বাবু এবং আলীর পরিবারের মতো বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকার প্রত্যেকটি পরিবারের অবস্থা একই। সবগুলো পরিবার নারী ও শিশুশূন্য। এমনকি বাড়িঘর তালা দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে অনেকেই। সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো সীমান্ত জনপদে।

নশাপাড়ার আরেক বাসিন্দা মোক্তার আহমদ (৪০) বলেন, আমার বাড়িতে ৭ সদস্যদের মধ্যে আমি ছাড়া বাকি সবাই উখিয়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। খুবই কষ্টে আছি। সরকার থেকেও কোন সহযোগিতা করা হয়নি।

এদিকে সীমান্তের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা চলছে বাংলাদেশ সীমান্তে। আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষের আশ্রয়ের জন্য ২টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছি। আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে আহ্বান করব আপনারা সীমান্ত এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। আমরা সবাই একসাথে কাজ করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা হয়েছে, যদি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয় তাহলে সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাব।

তিনি জানান, বান্দরবান সীমান্ত এলাকার ২৪০ পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তারমধ্যে ১৫০ পরিবার বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। বাকি যারা আছে তাদের অনুরোধ করছি নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য।

এদিকে, রাত বাড়লেই সীমান্ত এলাকা জুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। এখনো পর্যন্ত মাঝখানে ওপার থেকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি অংশে গোলাগুলির শব্দ কম শোনা গেলেও কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে সকাল থেকে বৃষ্টির মতো গোলা এবং মর্টারের আওয়াজ শোনা গেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ ৮ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিজিবি।

সংবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় বার্তা ২৪-এ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *