সারাদেশ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল সাময়িক বরখাস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট: কোনো তথ্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা যাবে না। কিছু তথ্য ব্যক্তি অনুমতি দিলেও নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ ছাড়া তা ব্যবহার করা যাবে না। তাছাড়া আইনও বলছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভাণ্ডার তৈরি করতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার থেকে গ্রাহকদের তথ্য যাচাই করা হয় মাত্র।

মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে এ ধরনের আইন থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বারবার মোবাইল ফোন অপারেটরদের তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য চাপ দিচ্ছে। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে গ্রাহক ফরম পূরণের জন্য সম্প্রতি পাঠানো এক চিঠিতে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বিটিআরসি বলছে, ইলেকট্রনিক টেলিযোগাযোগ গ্রাহক নিবন্ধন ফরম ‘অটোফিলকরণ’ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং তা বুধবারের মধ্যে অগ্রগতির প্রতিবেদন কমিশনে পাঠাতে হবে।

আশিকুর রহমান নামে একজন গ্রাহক বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য কেন বিদেশি কিংবা দেশি বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হবে! ভবিষ্যতে যদি তারা এটি অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করে দেয় তখন কী হবে! তিনি বলেন, যতটুকু জেনেছি, মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাই চাপ দিচ্ছে অথচ এসব মোবাইল অপারেটররা মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রাখতে আগ্রহী নয়। বরং সরকার বা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব মানুষের এসব তথ্য সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এখানে উল্টো সরকারি প্রতিষ্ঠানই এসব তথ্য বিভিন্ন কোম্পানির হাতে তুলে দিতে চাইছে এবং বাধ্য করছে।

খাত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেন, আগে যেভাবে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভার থেকে মোবাইল অপারেটরেরা কাজ করে আসছিল, তাতে তো কোনো ধরনের সমস্যা ছিল না। হঠাৎ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে, ব্যক্তিগত সুরক্ষা আইন ভঙ্গ করে এখন অপারেটরদের চাপ দিয়ে কাজটি করাতে হবে।

জানা গেছে, এই ইস্যুতে বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে গত জানুয়ারিতে একটি সভা করে। ওই সভায় মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের ব্যাপারে অপারেটরদের কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২৫ জানুয়ারির এক সভায় বিটিআরসি অপারেটরদের চিঠি দিয়ে মানুষের তথ্য নিয়ে তা সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি মানুষের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, নারী-পুরুষ পরিচয়, পেশা ও ছবি নিয়ে গ্রাহকদের তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য প্রায় দুই বছর ধরে চিঠির মাধ্যমে তাগিদ দিয়ে আসছে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ন্যাশনাল ডিজিটাল আর্কিটেকচার (বিএনডিএ)-এর কাছে এসব তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়। বিএনডিএ সরকারের আইসিটি বিভাগের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের একটি প্ল্যাটফর্ম আবার এই বিএনডিএ’র একটি সার্ভিস হলো ‘পরিচয়’। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে চালু হওয়া ‘পরিচয়’ পরিচালনা করে ডিজিকন টেকনোলজিস নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, মোবাইল অপারেটরেরা এ ধরনের তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে তাদের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছে। এরপরেও এখান থেকে জনপ্রতি ১০ টাকার বিনিময়ে এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি বিভাগ থেকে গ্রাহকের পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে সিম বিক্রি করতে মোবাইল অপারেটরদের জনপ্রতি ৫ টাকা করে দিতে হয়।

সংবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় বার্তা ২৪-এ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *